রবিবার

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১ চৈত্র, ১৪৩২

চলতি হিসাবে ঘাটতি কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১০:১৭

শেয়ার

চলতি হিসাবে ঘাটতি কমেছে
ছবি: সংগৃহীত

রেমিট্যান্স প্রভাব বাড়ার কারণে বিদেশের সঙ্গে লেনদেন ভারসাম্যে চলতি হিসাবে ঘাটতি কমেছে। চলতি অর্থবছরের (জুলাই-জানুয়ারি) ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ডলার, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ৬২ কোটি ডলার। আর গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ১৩১ কোটি ডলার। একই সময় বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণের কারণে আর্থিক হিসাব পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ফলে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জানুয়ারিভিত্তিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আমদানি ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৯৮৮ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা চার দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। একই সময় রপ্তানি আয় এক দশমিক ১০ শতাংশ কমে হয়েছে দুই হাজার ৬০৯ কোটি ডলার। এতে করে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে এক হাজার ৩৭৯ কোটি ডলার হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ১৭৪ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে এক হাজার ৯৪৩ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। রপ্তানি সেভাবে না বাড়লেও রেমিট্যান্সে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সার্বিকভাবে চলতি হিসাবে ৩৮ কোটি ডলার ঘাটতি হয়েছে। অবশ্য আর্থিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্ত হয়েছে ২০০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে উদ্ধৃত ছিল মাত্র ৩৩ কোটি ডলার। আর্থিক হিসাবে এই উদ্বৃত্তের মূলে রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ বৃদ্ধি।

এসবের প্রভাবে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ২২৮ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে ঘাটতি ছিল ১২২ কোটি ডলার, যার প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। গত জানুয়ারি শেষে গ্রস ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট হলো একটি দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টের (বিওপি) অন্যতম প্রধান উপাদান। পণ্য ও সেবার নিট বাণিজ্য, বিদেশ থেকে আসা আয় ও রেমিট্যান্সের মতো চলতি হস্তান্তর এর অন্তর্ভুক্ত।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমদানিতে যে কড়াকড়ি ছিল, এখন তা নেই। ফলে আমদানির চাহিদা অনেকটা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের টানা সাত মাস ধরে কমেছে। ফলে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার পরও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ চলতি হিসাবের ঘাটতি কমিয়ে এনেছে।

আমদানি বাড়ার একটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে মূলধনি পণ্যে এটি বেশি বাড়ছে। প্রথম সাত মাসে মূলধনি পণ্যের আমদানি প্রায় ১৪ শতাংশ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ১২১ কোটি ডলার দেশে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, প্রথম সাত মাসে সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্য স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। রপ্তানি কমা ও আমদানি বাড়ার পরও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় গত বছরের তুলনায় চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে চলমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের খাতে প্রভাব ফেলতে শুরু করতে পারে।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর ইতোমধ্যেই চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের দাম ৭০ পয়সার বেশি বেড়ে ১২৩ টাকায় ঠেকেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১২২ দশমিক ৩০ টাকা।

জাহিদ হোসেন বলেন, চলমান যুদ্ধের প্রভাব মার্চ মাস থেকে দৃশ্যমান হতে পারে, যার ফলে আগামী দিনগুলোতে লেনদেনের ভারসাম্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এটি বিনিময় হার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিনিময় হারের অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংককে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।



banner close
banner close