বুধবার

১১ মার্চ, ২০২৬ ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী আরও একটি ট্যাংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫২

শেয়ার

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী আরও একটি ট্যাংকার
ছবি সংগৃহীত

সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের আরও একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গত ১১ দিনের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় ডিজেলবাহী জাহাজের আগমন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে ট্যাংকারটি বন্দরে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গত সোমবার ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে ‘শিউ চি’ নামের আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। নতুন এই চালান দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে আরও তিনটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এর মধ্যে ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে ‘এসপিটি থেমিস’ আগামী ১২ মার্চ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া ১৩ মার্চ ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ এবং ১৫ মার্চ ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে। প্রতিটি ট্যাংকারে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা এই পাঁচটি ট্যাংকার মিলিয়ে দেশে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল যুক্ত হবে।

বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই চালানের ডিজেল দিয়ে দেশের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী অন্তত ১২ দিনের জ্বালানি প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার গত রোববার থেকে দৈনিক ডিজেল সরবরাহ কমিয়ে ৯ হাজার মেট্রিক টনে নামিয়েছে।

এই সাশ্রয়ী সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় থাকলে নতুন আসা ডিজেল দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আরও ১৬ থেকে ১৭ দিনের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। ফলে নতুন চালান যুক্ত হলে সব মিলিয়ে প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা পূরণে স্বস্তি তৈরি হবে।

বিপিসির বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রথম জাহাজটি পৌঁছানোর পর দ্রুত জ্বালানি খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজটির খালাস কার্যক্রমও চলছে এবং পরবর্তী জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছালে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

তিনি বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা আতঙ্কের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত হবে। জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিপিসি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।



banner close
banner close