মঙ্গলবার

৩ মার্চ, ২০২৬ ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

আট মাসে রফতানি কমেছে ৩.১৫ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে পতন ১২.০৩ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৩০

শেয়ার

আট মাসে রফতানি কমেছে ৩.১৫ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে পতন ১২.০৩ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দেশের পণ্য রফতানি ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে বছরওয়ারি ভিত্তিতে রফতানি কমেছে ১২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পণ্য রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯০ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৩ হাজার ২৯৪ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এ হিসাবেই সামগ্রিক রফতানিতে ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ হ্রাস হয়েছে।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও পরবর্তী সাত মাসে টানা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে প্রবৃদ্ধি কমেছে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নভেম্বরে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। জানুয়ারিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি ছিল দশমিক ৫০ শতাংশ। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে রফতানি কমেছে ১২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

ফেব্রুয়ারিতে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৪৯ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ অঙ্ক ছিল ৩৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ফলে বছরওয়ারি হিসাবে ফেব্রুয়ারিতে উল্লেখযোগ্য হ্রাস হয়েছে।

নতুন ক্রয়াদেশের ক্ষেত্রেও মন্থরতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত উইকলি সিলেকটেড ইকোনমিক ইন্ডিকেটর্স অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র খোলা কমেছে ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি কমেছে ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ প্রবণতা ভবিষ্যৎ রফতানিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, আট মাসে তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম। মোট রফতানির ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। ইপিবি জানিয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এ খাতে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা রয়েছে। নিটওয়্যার খাত ওভেন পোশাকের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।

চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হালকা প্রকৌশল ও হিমায়িত মাছসহ কয়েকটি খাতে বছরওয়ারি ভিত্তিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ইপিবি বন্দর কার্যক্রমে বিঘ্ন, জাতীয় নির্বাচন এবং প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা হ্রাসকে সামগ্রিক রফতানি কমার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বাজারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫৮৭ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য হিসেবে রয়েছে এবং এ বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৭৪ শতাংশ। প্রধান গন্তব্যগুলোর মধ্যে চীনে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

রফতানিকারক সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি ব্যয়ের ওঠানামা সামনের মাসগুলোতে রফতানির গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে। ক্রয়াদেশ পরিস্থিতির উন্নয়ন বহুলাংশে আন্তর্জাতিক বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল বলে তারা উল্লেখ করেন।



banner close
banner close