শনিবার

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পালাবদলেও অটল থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের পদ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪২

শেয়ার

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পালাবদলেও অটল থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের পদ
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মহামারী বা রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের মতো বড় ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা দীর্ঘ সময় দায়িত্বে বহাল থাকছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারের আস্থা, মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার স্বার্থেই অনেক সরকার এ পদে দ্রুত পরিবর্তন আনে না।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve–এর চেয়ারম্যান হিসেবে Jerome Powell দায়িত্ব নেন ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। তাকে মনোনয়ন দেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। দায়িত্ব গ্রহণের পর সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সঙ্গে তার নীতিগত মতপার্থক্য দেখা দেয়। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট Joe Biden তাকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুনর্নিয়োগ দেন। করোনা-পরবর্তী উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সুদের হার বৃদ্ধির কঠোর নীতির কারণে রাজনৈতিক সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর Elvira Nabiullina ২০১৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালের ক্রাইমিয়া-পরবর্তী পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি তেলের দাম পতন এবং ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আর্থিক অবরোধের মতো পরিস্থিতিতে তিনি সুদের হার বৃদ্ধি, পুঁজিপ্রবাহে নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক খাতে তদারকি জোরদারের মতো পদক্ষেপ নেন। বিভিন্ন সময় পদত্যাগের গুঞ্জন উঠলেও প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin তাকে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত জানান।

যুক্তরাজ্যে Bank of England–এর গভর্নর হিসেবে ২০১৩ সালে দায়িত্ব নেন কানাডীয় নাগরিক Mark Carney। এর আগে তিনি Bank of Canada–এর গভর্নর ছিলেন। বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট-পরবর্তী অস্থিরতার সময় তিনি সুদের হার সমন্বয় ও তারল্য সহায়তার মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পদক্ষেপ নেন। একাধিক সরকার পরিবর্তনের মধ্যেও তিনি মেয়াদ পূর্ণ করেন।

চীনের People's Bank of China–এর গভর্নর হিসেবে Zhou Xiaochuan ২০০২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এ সময় ব্যাংক খাত সংস্কার, খারাপ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং ইউয়ানের বিনিময় হার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়। নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও তাকে বহাল রাখা হয়।

ইসরায়েলের Bank of Israel–এর গভর্নর হিসেবে Stanley Fischer ২০০৫ সালে দায়িত্ব নেন এবং একাধিক সরকার পরিবর্তনের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেন। মালয়েশিয়ার Bank Negara Malaysia–এর গভর্নর Zeti Akhtar Aziz ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন এবং আর্থিক খাত পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার South African Reserve Bank–এর গভর্নর Tito Mboweni ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়েই দেশটি মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে। মরক্কোর Bank Al-Maghrib–এর গভর্নর Abdellatif Jouahri ২০০৩ সাল থেকে দায়িত্বে আছেন এবং বিভিন্ন সরকার পরিবর্তনের মধ্যেও বহাল রয়েছেন।

শ্রীলংকার Central Bank of Sri Lanka–এর গভর্নর Nandalal Weerasinghe ২০২২ সালে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের সময় দায়িত্ব নেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের পরও তাকে দায়িত্বে রেখে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও গভর্নরের মেয়াদের নিরাপত্তা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। রাজনৈতিক পালাবদলের সময় গভর্নরকে বহাল রাখার মাধ্যমে রাষ্ট্র নীতির ধারাবাহিকতা ও পেশাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বার্তা দেয়। এজন্যই বহু দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও অটল থাকে।



banner close
banner close