সোমবার

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা: সরকারের চ্যালেঞ্জ ও একীভূতকরণের বিরোধিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৫

শেয়ার

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা: সরকারের চ্যালেঞ্জ ও একীভূতকরণের বিরোধিতা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে প্রতিষ্ঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এখন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকটির উদ্বোধনসহ একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাংকগুলোর কর্মী, আমানতকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক বিরোধিতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সরকারের আর্থিক সহায়তা এবং ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত বছর সরকার পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়, কিন্তু এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি। একীভূতকরণের বিরুদ্ধে ব্যাংকগুলোর কর্মী, আমানতকারী ও উদ্যোক্তারা আপত্তি জানাচ্ছেন। বিশেষত, ব্যাংকগুলোর কর্মীরা একীভূতকরণের বিরোধিতা করছেন, যেহেতু এটি তাদের চাকরি এবং ভবিষ্যতকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এছাড়া, প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা আমানত রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ক্ষুদ্র আমানতকারী। তাদের মধ্যে অনেকেই এখন তাদের টাকা ফেরত না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

এদিকে, ব্যাংকটির শুরুর লগ্নে সরকারের পক্ষ থেকে ২০,০০০ কোটি টাকা মূলধন বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০,০০০ কোটি টাকা সরকারের সুকুক প্রাপ্তি হিসেবে বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং বাকি ১০,০০০ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে, ব্যাংকটির আয় কম হওয়ার কারণে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় হচ্ছে, যা দ্রুত সরকারের বরাদ্দকৃত মূলধন ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক হলো: এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সিম ছাড়া বাকি ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের হাতে, এবং এসব ব্যাংকগুলোর প্রায় ১৮ হাজার কর্মীও চট্টগ্রামের। একীভূতকরণের বিরোধিতা তাদের মধ্যেও ব্যাপক এবং তারা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এছাড়া, ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তারা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন। এক্সিম ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তারা আদালতে একীভূতকরণের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন এবং তাদের দাবি, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ব্যাংকের ক্ষতি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই একীভূতকরণের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা প্রদান করা হবে। তবে, একীভূতকরণের বিরোধিতা করা পক্ষগুলোর দাবি, এটি ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এ পরিস্থিতিতে, ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে সরকারের এই উদ্যোগের ফলাফল এবং ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নতুন গভর্নরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির জন্য সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো যথাযথ হলে এটি দেশের ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং সুশাসনের উন্নতি সাধনে সহায়ক হতে পারে। তবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ও এর বিরুদ্ধে ওঠা বিরোধিতার ফলে এই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



banner close
banner close