রবিবার

১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫ মাঘ, ১৪৩২

ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহতের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩৯

আপডেট: ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৬

শেয়ার

ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহতের আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপের পার্বত্য এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার পর বিমানের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে ধ্বংসাশেষ দেখতে পান উদ্ধারকর্মীরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানে মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন। দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা আন্দি সুলতান বলেন, উদ্ধারকারীরা মাউন্ট বুলুসারাউংর চূড়া থেকে প্রায় ২০০ মিটার (৬৫০ ফুট) দূরে একটি গিরিখাতে দুর্ঘটনায় নিহত একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এছাড়া বিমানে থাকা বাকিদের অবস্থা এখনো জানা যায়নি।

মাকাসারের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যালয়ের প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, সুলাওয়েসির মাউন্ট বুলুসারাউং পাহাড়ের ঢালে ঘন বনাঞ্চলের মধ্যে ধ্বংসাবশেষটি শনাক্ত করা হয়। পরে উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে বিমানের মূল ফিউজলাজ ও লেজের অংশের সঙ্গে মিল থাকা বড় ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে।

সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার বলেন, ‘বিমানের প্রধান অংশগুলো খুঁজে পাওয়ায় অনুসন্ধান এলাকা অনেকটাই সীমিত করা গেছে। এখন আমাদের যৌথ উদ্ধারকারী বাহিনী যাত্রী ও ক্রুদের সন্ধানে জোর দিচ্ছে।

নিখোঁজ হওয়া টার্বোপ্রপ এটিআর ৪২-৫০০, বিমানটি পরিচালনা করছিল ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট। বিমানটি জাভা দ্বীপের ইয়োগ্যাকার্তা থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারের উদ্দেশে যাচ্ছিল। শনিবার মাকাসারের মারোস জেলার পাহাড়ি লেয়াং-লেয়াং এলাকায় পৌঁছানোর সময় এটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

বিমানে আটজন ক্রু সদস্য এবং মেরিন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ফিশারিজ মন্ত্রণালয়ের তিনজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা আকাশপথে একটি সামুদ্রিক নজরদারি মিশনে অংশ নিচ্ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ সুলাওয়েসির সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল বাঙ্গুন নাওকো জানান, প্রবল বাতাস, ঘন কুয়াশা ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। তবুও রবিবার দিনভর স্থল ও আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা কুয়াশায় ঢাকা সরু পাহাড়ি পথ ধরে হেঁটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিমান ও ফেরির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বিমান এবং বাস দুর্ঘটনা ও ফেরি ডুবে যাওয়ার মতো একাধিক পরিবহন দুর্ঘটনা ঘটেছে।



banner close
banner close